শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের পাঁচালী বাংলা ভাষায় হিন্দু ভক্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় পাঠ। এটি প্রতি পূর্ণিমায় বা শুভ দিনে পাঠ করা হয়, বিশেষ করে সত্যনারায়ণ ব্রতের সময়। নিচে পাঁচালীর একটি শ্রদ্ধেয় ও সহজবোধ্য সংস্করণ দেওয়া হলো:
---
## **🌼 শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও পাঁচালী 🌼**
### **প্রারম্ভিক স্তোত্র:**
**শ্রদ্ধা ভক্তি যাহার আছে, শোন শুন নারায়ণ কথা,
সত্য কথা, ধর্ম কথা, বিষ্ণু লীলা কথা।
যে গৃহে এই কথা হয়, পূণ্যধামে পরিণয়,
দুঃখ-দারিদ্র নাশ হয়, সুখ শান্তি লাভ হয়।**
---
### **📖 প্রথম অধ্যায়: ব্রহ্মার আদেশে নারদের আগমন**
একদিন মহর্ষি নারদ লোক পরিক্রমা করে বিষ্ণুলোকে গিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন:
> “হে প্রভু! দুখী, ক্লিষ্ট, অভাবী মানুষের দুঃখ দূর করিবার কি উপায়?”
প্রভু বলিলেন:
> “সত্যনারায়ণ ব্রত করিলে মানুষের সকল দুঃখ দূর হয়, সংসার সুখে পূর্ণ হয়। এই ব্রত যে করে, সে স্বর্গে যায়, মর্ত্যেও পায় সুখ।”
---
### **📖 দ্বিতীয় অধ্যায়: দরিদ্র ব্রাহ্মণ ও ব্রতের মাহাত্ম্য**
এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ কাশী নগরে বাস করিত। ভিক্ষায় দিনাতিপাত করিত। স্বপ্নে নারায়ণ বলিলেন:
> “হে ব্রাহ্মণ! আমার ব্রত কর। তবেই তোমার অভাব দূর হইবে।”
ব্রাহ্মণ ভক্তিভরে ব্রত করিল এবং সবার সঙ্গে সত্যনারায়ণ কথা ভাগ করিল। তৎপর ফলেও তাহার দারিদ্র্য দূর হইল।
### **🪔 আরতি / প্রার্থনা:**
🔔
**জয় নারায়ণ, জয় নারায়ণ, জয় লক্ষ্মীপতি দেব।
সত্যনারায়ণ স্বামী, বর দাও হে দয়াময়।
দুঃখ দূর করো, সুখ দাও প্রভু, প্রেম ভক্তি দাও হৃদয়ে।
সত্যনারায়ণ স্বামী, সদা করো সদগতি ময়।**
## ✨ **শেষ কথা:**
এই পাঁচালী পাঠ শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয় (যেমন: সুজি-গুড়-দুধের পায়েস), এবং সকলে ভক্তিভরে নারায়ণ নাম জপ করেন।