শ্রী শ্রী লক্ষ্মী দেবী হলেন ধন-সম্পদ, সৌন্দর্য ও সৌভাগ্যের দেবী হলেন । প্রকৃতপক্ষে লক্ষ্মী দেবী ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতির রজোগুণের প্রতীক। সত্ত্বগুণ সর্বশ্রেষ্ঠ, রজোগুণ মধ্যম এবং তমোগুণ সব থেকে নিকৃষ্ট। তবে জীবন ধারণের জন্য তিন গুণই আবশ্যক। সংসারী মানুষদের কেবল সত্ত্বগুণ আশ্রয় করলে হয় না, রজোগুণেরও বিশেষ প্রয়োজন। বিষ্ণু রজোগুণের দ্বারা প্রাণিকুলকে পালন করছেন। যে শক্তি দ্বারা বিষ্ণু জগৎকে পালন করছেন সে শক্তিই হলেন লক্ষ্মী দেবী। শক্তি বা প্রকৃতিকে নারী বা পত্নী রূপে কল্পনা করা হয়। সে অর্থে লক্ষ্মী দেবী হলেন বিষ্ণুপত্নী। তৈত্তিরীয় সংহিতায় শ্রী ও লক্ষ্মী দেবী হলেন আদিত্যের স্ত্রী। যেহেতু আদিত্য বা সূর্য ও বিষ্ণু একই দেবতা সেহেতেু লক্ষ্মীকে বিষ্ণু-শক্তি বলা যায়। অহির্বুধণ্য-সংহিতা মতে বিষ্ণুর ইচ্ছাত্মিকা ও ক্রিয়াত্মিকা এই দুই প্রকারের শক্তি রয়েছে। তাঁর ইচ্ছাত্মিকা শক্তিই লক্ষ্মী এবং ক্রিয়াত্মিকা বা সক্রল্প রূপ শক্তিই সুদর্শন। বিষ্ণুপুরাণে বিষ্ণুর যে তিনটি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় তা হল সন্ধিনী, সংবিৎ এবং হ্লাদিনী। এই হ্লাদিনী শক্তিই হলেন লক্ষ্মী দেবী।